Friday, April 3, 2026

কুলধারা গ্ৰাম

 
রাজস্থানের জয়সলমের কাছে অবস্থিত কুলধারা একটি ঐতিহাসিক পরিওক্ত গ্ৰাম। যা এয়দশ শতকে পালিওয়াল ব্রাহ্মণদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি সমৃদ্ধ জনপদ ছিল।
তবে উনি শতকের দিকে এক অজানা কারণে এখানকার সব লোক রাতারাতি গ্রাম থেকে উধাও হয়ে যায়। সম্ভবত সবাই মনে করে জল সরবরাহ ছিল এর মূল কারণ আবার অনেক মানুষ মনে করে ভূমিকম্প ছিল এর আসল কারণ, তবে স্থানীয় কিংবদন্তি অনুসারে তৎকালীন জয়সলমের রাজ্যের মন্ত্রী সালিম সিং ছিল এর মূল কারন। কারণ তখন গ্রামবাসীদের উপর কঠোর ও নিশংস আচরণ করতেন সালিম সিং, তার অত্যাচারের ফলে রাতারাতি গ্রামবাসীরা গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। এবং যাওয়ার সময় তারা গ্রামে অভিশাপ দিয়ে যায়। তারপর থেকেই প্রায় ৩০০ বছর ধরে এই গ্রাম অভিশপ্ত ও জনশূন্য হয়েই রয়ে গেছে। 

প্রায় ৫০০ বছর ধরে গড়ে ওঠা কুলধারা গ্রাম রাতারাতি ভৌতিক গ্রামে পরিণত হয়, ২০১০ দশকে রাজস্থান সরকার গ্রামটি কি টুরিস্ট স্পট হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। আর এখন পর্যটনের অন্যতম অংশ হলো এই গ্রামটি। এই গ্রামটি বহুদিন প্রচলিত হওয়ার কারণে রাজস্থান সরকার টুরিস্টদের জন্য এই গ্রামটি সকালে খোলা থাকলেও সন্ধ্যে হলে এই স্থান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ভারতের থর মরুভূমির কোলে কুলধারার পত্তন হয়েছিল ত্রয়োদশথর শতকে তৎকালীন পালি রাজ্য থেকে আসা পালিওয়াল ব্রাহ্মণদের দ্বারা। ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মী চাঁদ রচিত গ্রন্থ তারিখ-ই-জয়সলমের অনুসারে 'কড়হান' নামে এক ব্রাহ্মণ এখানে এসে প্রথম বসত তৈরি করেন। তিনি গ্রামে 'উধানসার' নামে একটি পুকুর খনন করেন।

গ্রামটির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে পাওয়া গেছে তিনটি সমাধিক্ষেত্র এবং ৬০০ টির বেশি বাড়ির ধ্বংসাবশেষ এবং বেশ কয়েকটি 'দেবালী' বা স্মৃতিস্তম্ভ এদের মধ্যে দুটি দেবালী শিলালিপি নির্দেশ করে যে গ্রামটিতে ত্রয়োদশ শতকের প্রথম দিকে বসতি স্থাপিত হয়েছিল। এই শিলালিপিগুলি ভাট্টিক সংবতে ( যা ৬২৩ খ্রিস্টাব্দে শুরু হওয়া একটি বর্ষপঞ্জী বা ক্যালেন্ডার) দু'জন বাসিন্দার মৃত্যুর তারিখ যথাক্রমে ১২৩৫ এবং ১২৩৮ খ্রিস্টাব্দ নির্দেশ করে।


কুলধারা গ্রাম থেকে জয়সলমের থেকে সড়ক পথে ১৮কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। থর মরুভূমির কোলে কুল ধারার পতন হয়েছিল। কুলধারা গ্রামের বাসিন্দারা বিষ্ণুদেবের উপাসক ছিলেন, সেখানে গ্রামের প্রধান মন্দিরে বিষ্ণু ও মহিষাসুর মর্দিনীর ভাস্কর ভূষিত হতো।


সেখানকার গ্রামবাসীরা বেশিরভাগই কৃষক ও ব্যবসায়ী ছিল। এবং তারা সূক্ষ্ম মাটির তৈরি অলংকৃত পাত্র ব্যবহার করত, কৃষি কাজের জন্য তারা কাঁকলি নদী বা কিছু কূপ থেকে জল সেচ করতো। তারা জোয়ার,গম,ছোলা চাষ করতো ।কাঁকনি ছিল মূলত মৌসুমী নদী, উল্লার এর কাছে দুটো শাখায় প্রবাহিত হতো। 

তারপর, ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দের রাখী পূর্ণিমার রাতে সমস্ত গ্রামবাসী পুরো গ্রাম ছেড়ে অন্য গ্রামে চলে যায় এবং চলে যাওয়ার সময় গ্রামবাসীরা অভিশাপ দিয়েছিল যে এখানে আর কেউ বসতি করতে পারবে না, বর্তমানে রাজস্থানের জয়সলমের এই গ্রামটিকে তাই অভিশপ্ত গ্রাম বলা হয়। এবং এটি আজও অভিশপ্ত হয়ে রয়ে গেছে।


 







 








No comments:

Post a Comment