Saturday, April 18, 2026

“অপারেশন শক্তি:” pokhran-2

 ১৯৯৮ সালের দিল্লি। গরমে শহর জ্বলছে, কিন্তু দেশের ভেতরে আরেক ধরনের উত্তাপ তৈরি হচ্ছে যা কেউ দেখতে পাচ্ছে না।প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের এক নীরব কক্ষে বসে আছেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। তিনি তখন সবে নতুন প্রধানমন্ত্রী পদে বসেছেন,তাঁর সামনে দুজন মানুষ কিন্তু খুবই বিশ্বস্ত তারা হলো ভারতের দুই সফল ও বড় বিজ্ঞানী এ. পি. জে. আবদুল কালাম এবং রাজগোপাল চিদাম্বরম।ঘরের ভেতরে আলো কম বাইরের পৃথিবী যেন এই মুহূর্তে অস্তিত্বহীন।

Atal Bihari Vajpayee এবং APJ Abdul Kalam ও rajgopal Chidambaram

বাজপেয়ী ধীরে বললেন,“আমরা অনেকদিন অপেক্ষা করেছি… এখন সময় এসেছে।কালাম কিছুক্ষণ চুপ থেকে উত্তর দিলেন,

“স্যার, আমরা প্রস্তুত। কিন্তু এই কাজটা যদি ধরা পড়ে…”

বাজপেয়ীর ঠোঁটে হালকা হাসি,“তাহলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই আমাদের ভুল করা চলবে না।”ঘরের ভেতর নীরবতা। কিন্তু সেই নীরবতার মধ্যেই জন্ম নিল এক অপারেশন Pokhran-II.


রাজস্থানের পোখরান মরুভূমি। দিনের বেলা এখানে শুধু গরম হাওয়া আর বালির ঢেউ। কিন্তু রাত নামলেই বদলে যায় সবকিছু।চাঁদের আলোয় কিছু ট্রাক নিঃশব্দে ঢুকে পড়ে। নামেন কিছু মানুষ তাদের কেউই সাধারণ বিজ্ঞানীর মতো দেখায় না। সবার গায়ে সেনাবাহিনীর পোশাক।একজন সৈনিক ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করে,স্যার সবকিছু ক্লিয়ার তো? 

কালাম ধীরে বলেন,আজ রাতটা খুব গুরুত্বপূর্ন কেউ যেন কিছু বুঝতে না পারে।হাজার হাজার কিলোমিটার ওপরে ঘুরছে আমেরিকার স্যাটেলাইট। তারা খুঁজছে কোনো অস্বাভাবিক নড়াচড়া।কিন্তু নিচে সবকিছু নিখুঁতভাবে লুকানো।দিনের বেলা যন্ত্রপাতি বালির নিচে চাপা দিয়ে দেওয়া হয়,আর রাত হলেই আবার কাজ শুরু হয়। মাটির গভীরে খোঁড়া হচ্ছে গর্ত। সেখানে স্থাপন করা হচ্ছে এমন কিছু, যা কয়েক মুহূর্তে ইতিহাস বদলে দিতে পারে।


১১ মে, ১৯৯৮।সকালটা অস্বাভাবিকভাবে শান্ত একটি ছোট কন্ট্রোল রুম সবাই সেখানে দাঁড়িয়ে কেউ কথা বলছে না। শুধু মেশিনের হালকা শব্দ।একজন অফিসার ধীরে বলে,কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে ৫… ৪… ৩… ২… ১…

হঠাৎ,মাটি কেঁপে ওঠে।দূরের মরুভূমিতে এক অদৃশ্য শক্তি বিস্ফোরিত হয়। ধুলো উড়ে যায় আকাশে। কেউ কিছু দেখতে পায় না, কিন্তু সবাই জানে এটাই সেই মুহূর্ত।কন্ট্রোল রুমে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর হালকা হাসি। কেউ চিৎকার করে না, কেউ উল্লাস করে না,সবকিছু এখনও গোপন।এ পি জে আবদুল কালাম অটল বিহারী বাজপাইকে ধীরে বলেন,“স্যার… এটা সফল হয়েছে।”দুই দিন পর, আবার একই দৃশ্য।আরও বিস্ফোরণ,আরও শক্তি, আরও নিশ্চিততা।দিল্লিতে ফিরে, বাজপেয়ী একটি বার্তা পান। খুব ছোট“Buddha has smiled.”তিনি চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ বসে থাকেন। তারপর ধীরে বলেন,“তাহলে আমরা সফল…”কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্বজুড়ে খবর ছড়িয়ে পড়ে।

Nuclear অপারেশনের কিছু মুহূর্ত

আমেরিকা বিস্মিত এটা কীভাবে সম্ভব? আমরা তো কিছুই দেখিনি!বিভিন্ন দেশ থেকে চাপ আসতে শুরু করে। নিষেধাজ্ঞা, সমালোচনা, হুমকি।কিন্তু বাজপেয়ী শান্ত জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি বলেন,“ভারত এখন একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ।তার কণ্ঠে কোনো অহংকার নেই, শুধু দৃঢ়তা।কয়েকদিন পর, সীমান্তের ওপার থেকেও প্রতিধ্বনি আসে।পাকিস্তান একই পথে হাঁটে।দক্ষিণ এশিয়া বদলে যায় চিরতরে।পোখরানের সেই মরুভূমি আবার আগের মতোই নিঃশব্দ হয়ে যায়।বালির নিচে লুকিয়ে থাকে বিস্ফোরণের চিহ্ন।কিন্তু সেই নীরবতার ভেতরেই লেখা হয়ে গেছে ইতিহাস,একটি দেশ, যা পুরো বিশ্বকে ফাঁকি দিয়ে, নিঃশব্দে নিজের শক্তি প্রমাণ করেছিল।

অপারেশনের পরের কিছু পরিস্থিতি

কখনো কখনো সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণগুলো শব্দ করে না,

তারা শুধু পৃথিবীর শক্তির মানচিত্র বদলে দেয়।


বিশ্বে আজকের দিনে এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অটল বিহারী বাজপাই এই ওই একটা সিদ্ধান্তের জন্যই আজ আমরা সুরক্ষিতভাবে বসবাস করতে পারছি। না হলে তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি বিশ্বের বড় বড় শক্তিধর দেশগুলি কেমন বিশ্বের নিম্নদেশ গুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, আক্রমণ করছে তাদের ক্ষমতা দেখাচ্ছে, যেমন ভেনেজুয়েলার ওপর আমেরিকার আক্রমণ অটল বিহারী বাজপাই ঐদিন যদি এই সিদ্ধান্তটি না নিতো তাহলে আমাদেরও অবস্থা ওই ভেনিজুয়েলার মতনই হত। 


(এটি হলো অপারেশন পোখরান-২ এর কাহিনী আপনারা যদি পোখরান-১ কাহিনী জানতে চান তাহলে নিচে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন) নমস্কার ধন্যবাদ।



No comments:

Post a Comment